তুমি কি বাপের বাড়ি থেকে

0
তুমি কি বাপের বাড়ি থেকে কিছুই শিখে আসনি বৌমা?মাত্র এতটুকুন পায়েস দিচ্ছ আমার ছেলেটাকে!! আর নিজের বেলায় এত তুলে রাখছো? কেমন মেয়ে মানুষ তুমি? সুমিত্রা দেবী তার নতুন বৌমা চৈতিকে খানিকটা চেছিয়েই বললেন খাবার টেবিলে বসে.. ছেলে সৌম্য খাবার টেবিলে সামনে বসে থাকলেও কিচ্ছুটি বলেনি.. ঘটনা টায় দুঃখ পেলেও চৈতি কিছু না বলে সৌমকে পায়েসের বাটি টা এগিয়ে দিয়ে সকলের অগোচরে চোখের জল মুছে ঘরে চলে যায়.. চৈতি আর সৌম্যর বিয়ে হয়েছে তিন মাস হলো অবশ্য প্রেম করেই বিয়ে...চৈতিদের পরিবার বেশ সচ্ছল তার বাবা চাকরি করতেন রেলে আর মা ছিলেন স্কুল টিচার তাই বলতে গেলে চৈতি বেশ ধনী পরিবারের ই মেয়ে..আর সৌম্য হলো পেশায় প্রফেসর..চৈতি ও চাকরি করতে চেয়েছিল কিন্তু শাশুড়ির মত না থাকায় তার আর চাকরি করা হয়ে ওঠেনি.. এবার গল্পে আসি... চৈতি জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবছে আগে এই মানুষটাই তার একটু কষ্ট হলেই কত ব্যস্ত হয়ে পড়ত অথচ এখন মা এতগুলো কথা শুনিয়ে দিলেন তবুও কিচ্ছুটি বলল না কি এমন দোষ করেছে সে শুধুমাত্র শশুর মশাই পায়েস খেতে ভালোবাসেন বলে তার জন্যে কিছুটা রেখে দিচ্ছিল নিজে ত আর খেয়ে নেয়নি..তার শরীরটা খারাপ বলেই তিনি খাবার টেবিলে আসেননি তাই তো সে রেখে দিচ্ছিল কিন্তু মা সে কথা বুঝলেন ত নাই উপরন্তু সৌম্য ও কোনো কথা বললো না... এরই মধ্যে সৌম্য ঘরে আসে এসে দেখে চৈতিকে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে সে চৈতিকে বলে.. সৌম্য: দেখো চৈতি সবসময় মায়ের মন রেখে চলার চেষ্টা করবে তাতেই সব ভালো হবে..সব কিছুতে তোমার অবাধ্যতা আর চলে না এখন আমরা আর প্রেমিক প্রেমিকা নয় আমরা স্বামী স্ত্রী..তাই তোমাকে কিন্তু মায়ের সব কথা মেনেই চলতে হবে..বুঝলে? যাই হোক এসো এবার ঘুমাবে রাত অনেক হয়েছে... চৈতি কোনো কথার উত্তর করে না ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে আগের অবস্থানেই...এটা দেখে সৌম্য রেগে যায় সে বলে ওঠে... সৌম্য:কি এত ভাবছো যে কথার উত্তর পর্যন্ত দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছ না?মায়ের উপর রাগ টা কি আমার উপর ঝাড়ার ইচ্ছে করছে? চৈতি জানলার দিকে থেকে মুখ ঘুরিয়ে সরাসরি শুষ্ক শিথিল চোখে তাকায় সৌম্যর দিকে..না আজ তার মনে অভিমানেরা মিছিল করেনি..আজ প্রতিবাদ মাথা চারা দিয়ে উঠেছে...নীরবতা ভেঙে নিজেকে শক্ত করে বলতে থাকে.. চৈতি: না না কি আর ভাববো ভাবার নেই তো কিছুই শুধু দেখছি যেই মানুষটাকে ভালোবেসেছি এটা ভেবে যে সেই মানুষটা আমায় বুঝবে ভালোবাসবে আজ সেই মানুষটা আমায় সংসারের নিয়ম শেখাচ্ছে কি অদ্ভুত না!মায়ের মত তুমিও ভাবছো তাইনা যে আমি রাক্ষসীর মত ওই পায়েস টুকু একা খাবো বলে তুলে রাখছিলাম?আসলে কি বলতো তোমার বাবা ভালোবাসেন পায়েস খেতে এই কথা টা মনে আছে?হয়তো তিনি শয্যাশায়ী বলে তোমাদের মন থেকে সেই কথাটাই হারিয়ে গিয়েছে..আমিও জানতাম না জানো তো..কিন্তু যখন রান্না করবো বলে ব্যবস্থা করছিলাম বাবা পায়েসের সুগন্ধ পেয়ে আমার কাছে বাচ্চা ছেলের মত আবদার করেছিলেন...আর ওনার আবদার টা পূরণ করতে যাওয়াটাই আমার অপরাধ হয়ে গেছে... ছাড়ো সেসব কথা আর বলে কি হবে আর হ্যাঁ একটা কথা আমি আর এই ঘরে থাকবোনা কেনো বলোতো আসলে মানুষের সম্মান টাই বেচেঁ থাকার সম্বল কিন্তু এটাই আজ হারিয়ে গেছে..তোমার ভালোবাসায় ভেজাল মিশে আছে... গল্পঃ -#ভেজাল লেখায় - # Saheli Saheli #অনুগল্প1662478662

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top