শাস্তি #পর্ব_৩_ও__শেষ_পর্ব আমার জা কে

0
শাস্তি #পর্ব_৩_ও__শেষ_পর্ব আমার জা কে ২দিন পর হাসপাতাল থেকে ছুটি দিলো। আর যেদিন তাকে ফিরিয়ে আনলো বাসায় সেদিন সন্ধ্যাবেলা আমার ভাসুর আর রিশা মন্দির থেকে মালাবদল আর সিঁদুরদান করে ফিরলো। এমন পরিস্থিতিতে বাসায় থমথমে অবস্থা।আমার শ্বশুর একদম ভেঙে পড়লেন। তার বড় ছেলের এমন কান্ড দেখে। কারণ বরাবরই আমার শ্বশুর মশাই সত্যি একজন সৎ মানুষ। এরমধ্যে আমার শাশুড়ী সামনে আনলো অনয় ও তার বৌদির অবৈধ সম্পর্কটাকে। তিনটি পরিবারে এসব কুকীর্তির কথা প্রকাশ হলো। এসব শুনে পরের দিন ভোর বেলায় মা-বাবা আমাকে নিতে আসলো। কিন্তু অনয়ের পরিবার আমাকে যেতে দিবে না আমিও গেলাম না কারণ অনয় ততদিনেও সুস্থ হয়নি। আমার বড় জা তার সবকিছু গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেলো। রিশা আর আমার ভাসুরের সংসার শুরু হলো। আমার বড় জা চলে যাবার কয়েকদিন পর একদিন অনয়ের কললিস্টে দেখলাম আমার জায়ের নাম্বারে অসংখ্য ফোন আর বার্তা। অনয় সুস্থ হয়ে গেলো আমিও ও বাড়ি ছেড়ে চলে আসলাম।কারণ আমার মনে হলো এমন ভুল মানুষকে নিয়ে বয়ে বেড়ানো।তারচেয়ে বরং নিঃসঙ্গ জীবন অনেক ভালো। কোথাও গিয়ে মনে হতো থাকলো যাকে চেয়েছিলাম অথবা যা চেয়েছিলাম সেখানে আমার আগেই একজন মিথ্যা হাতছানিতে সেই জায়গাটা পূর্ণ করে দিয়েছে। হয়তো চাইলে তাকে শুধরে নিতে পারতাম কিন্তু তার এ নোংরা অতীত আমাকে বেশ স্বার্থপর করে তুললো।নিজেকে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেললাম।চেষ্টা তো কম করিনি প্রতিদিন একটা মানুষকে সত্যের দিকে শুদ্ধতার দিকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। বাবা-মায়ের ভুল সিদ্ধান্তের যে অনুতপ্ত চেহারা সেটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো।সিদ্ধান্ত নিলাম এ সম্পর্কে আমি থাকবো না।আমার মুক্তির প্রয়োজন। আমি যেদিন ভোরে চলে আসলাম সেদিন আমার শ্বশুর শাশুড়ী আমাকে ধরে অনেক কান্নাকাটি করলো ফেরানোর চেষ্টা করলো। শ্বশুর মশাই আমাকে ধরে একটা কথায় বারবার বললো মা রে, তোকে আমি তোর বাবার কাছ থেকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনেছিলাম তা রাখতে পারিনি! এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যর্থ মানুষ আমি। তার এসব কথায় আমি চোখের কোণে জল মুছে আর পেছন ফিরে তাকাইনি। সাড়ে তিনঘন্টার জার্নিতে চোখের জল ফুরালো না আমার।কিন্তু এই চোখের জলের কোনো মূল্য নেই। গত দুবছরে এই মিথ্যে সংসারে আমিও বাধা পড়ে গিয়েছিলাম। রিশা আর আমার ভাসুর পাকাপাকিভাবে দেশের বাহিরে চলে গেলো। আমি ও বাসা ছেড়ে চলে আসার একুশ দিন পর আমার চাকরি হলো। শুরু হলো নতুন জীবন,নতুন যুদ্ধ। বাবা বেশ অনুতপ্ত সেদিন আমার অমতে বিয়ে দেওয়াতে।এখন খুব চোখে চোখে রাখে বাবা আমাকে। নতুন করে সংসার করতে বলে কিন্তু আমি আর কারো সাথে জীবন জড়াতে চায়নি।এক জীবনে সুখের তৃপ্তি আমার মিটে গেল। দিনশেষে বাবা মায়ের মুখের হাসি দেখেই না হয় বাকি জীবন কাটিয়ে দিবো সিদ্ধান্ত নিলাম। অনয়ের সাথে লাস্ট দেখা হয়েছিলো কোর্ট চত্ত্বরে ডিভোর্স পেপার সাইন করতে গিয়ে। তারপর হঠাৎ করে জানলাম অনয় ও তার বৌদি বিয়ে করেছে কিন্তু আমার শ্বশুর মানতে পারেনি।তাই তাদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। রিশা ও আমার ভাসুরও দেশের বাহিরে চলে গেছে। আমাদের ডিভোর্সের তেরো বছর পর অনয়ের এক প্রতিবেশীর সাথে দেখা হলে জানতে পারলাম আমার শ্বশুর বেশ ক'বছর আগেই মারা গেছে। ওই অত বড় বাড়িতে আমার শাশুড়ী একলা দিন কাটায়। আর এই তেরো বছরে অনয় ও তার বর্তমান স্ত্রীর ঘরে এখনো কোনো সন্তানের জন্ম হয়নি। আমার বেশ খারাপ লাগলো কথাগুলো শুনে কিন্তু পুরনো জীবন নিয়ে এখন কোনো আফসোস নেই আমার। বরং আমার প্রাপ্তি এতটুকু যে এতবছর পর ও আমার মা-বাবা সুস্থ আছে।আমি অফিস শেষে বাসায় ফিরে দুটো হাসিমুখ এখনো আমার জন্য অপেক্ষা করে। (বিঃদ্রঃ- আসলে পৃথিবীতে কাউকে ঠকিয়ে গিয়ে নিজে ভালো থাকা সুখী থাকা কামনা করাটাই অন্যায়।ক্ষনিকের মিথ্যে সুখ কখনো সারাজীবন বয়ে বেড়ানো যায় না।দিনশেষে, নিরাশ হবেন না কারো বিশ্বাসঘাতকতায় নিজেকে অসহায় ভাববেন না বরং সব পরিস্থিতিতে নিজেকে ভালোবাসুন সৃষ্টিকর্তার উপর আস্থা রাখুন)। লেখাঃ_স্মৃতিকথা_দত্ত।1662518472

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top